শুক্রবার; ০৪ এপ্রিল ২০২৫; ২১ চৈত্র ১৪৩১

২০২৪ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের পরিবর্তন ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

২০২৪ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের পরিবর্তন

মাহবুবা ইয়াসমিন তুরাবা

Published : ১৭:২২, ১৮ জানুয়ারি ২০২৫

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) বিগত বছরগুলোর মতই ২০২৪ সালেও বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রসেস অটোমেশন, কাস্টমার সার্ভিসে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশও এই প্রযুক্তি সাদরে গ্রহণ করেছে।

জেনারেটিভ এআই:

সম্ভবত গেল বছরের এআইতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হলো জেনারেটিভ  এআই। চ্যাট জিপিটি এবং অন্যান্য টেক্সট ও ইমেজ জেনারেটরগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো লুফে নিয়েছে। মানুষ এখন যেকোনও কনটেন্ট কিছু ক্লিকের মাধ্যমে তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে কবিতা-গল্প লেখা,  ভাষা  অনুবাদ, ডাটা অ্যানালাইসিস থেকে শুরু করে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে কোডিং করা সবই সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস অভিযোগ এনেছে, এআই চ্যাটবটগুলো কপিরাইট করা গল্প নিয়ে নিচ্ছে যেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা টেক্সট চুরির জন্য এআই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে ।

অপরদিকে, এআই কোপাইলট থেকে অটোপাইলটে রূপান্তরের খবরও ২০২৪ সালে শোনা গেছে। গিটহাবের রিসার্চাররা অটোমেটেড সফটওয়্যার ফ্রেমওয়ার্ক অটোডেভ নিয়ে এসেছে, যা রুটিন ওয়ার্ককে অটোমেট করা, কোড জেনারেট এবং কেস টেস্ট করতে পারে।

মাল্টিমোডাল এআই:

মাল্টিমোডাল এআই সব ধরনের ডাটা যেমন অডিও, ভিডিও, ছবি, টেক্সট ইত্যাদি নিয়ে কাজ করতে পারে। গুগলের জেমিনি মাল্টিমোডালিটির দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে যা সর্বোচ্চ পরিমাণ ৩৭টি ভাষা নিয়ে কাজ করছে। এদের রয়েছে এআই ইনফ্রাস্ট্রচার, বিশ্বসেরা রিসার্চার, এন্টারপ্রাইজ গ্রাহক এবং ক্লাউড সার্ভিস। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গবেষণা এবং অ্যাডভাইজিং ফার্ম ফরেস্টার তার এআই ফাউন্ডেশন মডেলস ফর ল্যাংগুয়েজ, ২০২৪ -এ গুগলকে ফাউন্ডেশন মডেলের দৌড়ে ১ নম্বর বলে অভিহিত করেছে।

অপরদিকে, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান এবং স্নায়ু বিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্যারি মার্কাস তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, মিডজার্নি ব্যবহার করে সুপরিচিত চলচ্চিত্রের ছবির মতো সাদৃশ্যপূর্ণ গ্রাফিক্স তৈরি করা সম্ভব, যাকে তিনি ভিজ্যুয়াল প্ল্যাজারিজম বলে স্পষ্টভাবে অভিহিত করেছেন।

লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল:

এআইয়ের অভূতপূর্ব আবিষ্কার হলো কনটেক্সচুয়াল ডাটা নিয়ে কাজ করা। র‌্যাগ (আরএজি) -এর মাধ্যমে কনটেক্সচুয়াল ডাটা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এআই হ্যালোকেশান কমানো সম্ভব হয়েছে। যদিও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো মানুষের মতো আচরণ করে না, তবে আমরা সেটা আশা করেছিলাম।

মাহবুবা ইয়াসমিন তুরাবা

কম্পিউটারকে শেখানো কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়-

আমেরিকান স্টার্টআপ এন্থ্রোপিকের একটি মডেল রিয়েল ওয়ার্ল্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধান থেকে শুরু করে কম্পিউটার ইউজ নিয়ে কাজ করা শুরু করেছে। ক্লাউড ৩.৫ সনেট ব্যবহার করে কম্পিউটার অ্যাকশন তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া যেমন কি-স্ট্রোক এবং মাউস ম্যানিপুলেট, লিংকে ক্লিক করা, টেক্সট লেখার মত কাজ তথা আপনার ইউজার ইন্টারফেসের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে দেয়। একে ২০২৪ সালের সবচেয়ে বড় এজেন্ট রিলিজ বলে অভিহিত করা যায়, যা বর্তমানে বেটা ভার্সনে আছে।

টেকসই এআই:

টেকসই এআই হলো এআই সিস্টেম তৈরি করার প্রক্রিয়া যা পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব কমায়। এরমধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি ব্যবহার হ্রাস, টেকসই গাইডলাইন এবং ট্রেনিং প্রদান। এরই ধারাবাহিকতায় গেল বছরে বিশ্বব্যাপী এনার্জি ইফিশিয়েন্ট আইটি হার্ডওয়্যারে সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। গুরুত্ব পেয়েছে টেকসই শিক্ষা ও ট্রেনিংও। তবে বহু  স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এআই-এর শক্তি এবং পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, তবুও তারা এআই প্রকল্পে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এরমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ এআইয়ের জন্য উৎপন্ন হওয়া কার্বন ফুটপ্রিন্ট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গেল বছরের বহুল আলোচিত প্রশ্ন ছিল- এআই মানুষকে রিপ্লেস করতে পারবে কিনা। আমার উত্তর হলো, যে মানুষ এআই ব্যবহার করছে, সে অন্য মানুষকে রিপ্লেস করতে পারবে। বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনার পরও বিপজ্জনক কাজে সাহায্য, ভুলের পরিমাণ হ্রাস,কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে এআইয়ের জুড়ি নেই।

লেখক: মাহবুবা ইয়াসমিন তুরাবা, সিনিয়র লেকচারার, সিএসই বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ